এর অংশ হিসেবে সরকারের ১৮০ দিনের একটা রোডম্যাপ এবং পর্যায়ক্রমে পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানান তিনি।
গাইবান্ধা-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে গতকাল সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক যে আমরা সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরেই ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের একটা যুদ্ধের মধ্যে পড়ে গেছি। যার ফলে দেশের শ্রমবাজারের একটি বড় জায়গা মধ্যপ্রাচ্য, সেই জায়গাটি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। একই দিকে আবার আমাদের একটা বড় দ্বিতীয় শ্রম খাত হিসেবে মালয়েশিয়া আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাজারটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। কিছুদিন আগেই আমাদের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সফর করে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে একটা ভালো ফলপ্রসূ আলাপ-আলোচনা করেছেন, আশা করি বাজারটি শিগগিরই খুলে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে থাইল্যান্ডেও আমাদের একটা ভালো সম্ভাবনা, কম্বোডিয়াতেও আমরা কাজ করছি। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বেশকিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করি তার সুফল ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান হবে।’
বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, গত ২২ বছরে (২০০৪ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৩ লাখ ৩৩ হাজার ২২৩ শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৬, ওমানে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৯, কাতারে ১০ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬, কুয়েতে ৪ লাখ ১ হাজার ৯৪২, বাহরাইনে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৩৩, জর্ডানে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০৮, লেবাননে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯২, ইরাকে ৮৫ হাজার ১৭৬, ইয়েমেনে ৪ হাজার ৪০, সিরিয়ায় ৮৭৯ ও ইরানে ১৮৬ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের আরেকটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী কর্মরত। সরকার বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশকিছু দেশকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, ফিজি, সার্বিয়া, ইতালি, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’
ঢাকা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত উন্নয়নের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও বন্ধ বাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে বর্তমানে কম্বোডিয়া, সিশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, মেসিডোনিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।’
মন্ত্রী আরো জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সহজ করতে বাংলাদেশ ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় আরো চারটি দেশের সঙ্গে এমওইউ, এমওসি বা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিএমইটির অধীনে ১০৪টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ও ছয়টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আগ্রহীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা, আরবি, ইতালীয় ও জার্মান ভাষায় স্থানীয় প্রশিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপি সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে ৬২ হাজার ৩৫২ নারীসহ মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।